যেভাবে ১ মাসে শেষ করবেন প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

যেভাবে ১ মাসে শেষ করবেন প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন। বিস্তারিত আলোচনা করা হল লিখেছেন
গাজী মিজানুর রহমান

২০১৮ সালের প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পদে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিবে বলে জানা গেছে। এবং এই ১২ হাজার পদের জন্য ২৪ লাখ ৫ জন্ চাকরি প্রত্যাশী আবেদন করেছে। তার মানে প্রতি একটি পদের জন্য ২০০ জন চাকরী প্রত্যাশী প্রতিযোগিতা করবে। আরো সহজভাবে বললে, প্রতি ২০০ জনে ১ জনে চাকরি পাবে। [তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮]

এখন অনেকের মনে এমন প্রশ্ন উদয় হতে পারে-
১। “এতো জনের মাঝে আমার এই চাকরিটা কি পাওয়া সম্ভব?”
(আবার, কেউ কেউ এটাও ভাবতে পারেন, “এতো জনের মাঝে এই চাকরিটা আমার হবেই না!”)

২। আবার কারো মনে এই প্রশ্ন উদিত হতে পারে, “এই এতো অল্প সময়ে প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব?”

৩। আবার কেউ কেউ বলতে পারেন, “যদি এতো অল্প সময়ে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া সম্ভবপর হয়, তাহলে সেটা কীভাবে নিবো?”

আমি চেষ্টা করবো উপরিউক্ত প্রশ্নগুলো উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেয়ার জন্য-

১। আপনি ভুলে যান কতজন চাকরির পরীক্ষা দিবে সেই সংখ্যাটির কথা। আপনি শুধু নিজের প্রতি এই আস্থা রাখুন যে, ১২ হাজার নয় যদি ১২ জনও নেয় তাহলে তাদের মধ্যে আমি একজন থাকবো।
এই কথা বলছি এই জন্য যে, মোট যে ২৪ লাখ প্রার্থী চাকরি জন্য আবেদন করেছে তার অধিকাংশই আছে এমন যে, কেবল চাকরি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা জন্য শুধু এই পরীক্ষাটা দিচ্ছে; চাকরি পাওয়ার জন্য নয়। আবার কিছু এমন আছে শুধু পরীক্ষার জন্যই পরীক্ষা দেয়া, তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই বা প্রস্তুতি নিবে না। আবার কিছু এমন আছে যে, প্রস্তুতি নিয়ার ইচ্ছে আছে এবং চাকরিটা পাওয়ার ইচ্ছে আছে কিন্তু কী পড়বে আর কী বাদ দিবে; কোন টপিকটি বেশি Important আর কোন টপিক কম Important যেটি না বোঝার কারণে ১ মাসে এই পরীক্ষাটির ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবে না। অর্থাৎ কী পড়বে আর কী বাদ দিবে সেটা বুঝে ওঠতে ওঠতেই পরীক্ষার ডেইট চলে আসবে!

তাহলে বোঝা গেলে এই ২৪ লাখ চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে মূলত ৫০-৬০ হাজারের মধ্যে মূল প্রতিযোগিতা হবে। এবং সেখান থেকে প্রায় ২৫-৩০ হাজার ভাইভার জন্য কল পাবে বলে আশা করা যায়।

২। হ্যাঁ, এতো অল্প সময়ের মাঝে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব! (মূলত, যাদের বাংলা ব্যাকরণ, English Grammar ও গণিতের উপর কিছুটা পড়াশোনা আছে তাদের জন্য এই বিষয়টা সহজসাধ্য।)

৩। এবার আসি মূল কথায়, যেভাবে ১ মাসে প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ করবেন-

প্রথমে আপনি “প্রফেসর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ গাইড বই টা খুব ভালো ও জব সলিউশান টা ভালো করে দেখবেন //অবশ্যই খুব ভালো বই। তার পরেও এই বই 📚 প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ Analysis” বই থেকে ৬****** (6 Star), ৫*****(5 Star) ও ৪**** (4 Star) দেয়া টপিকগুলো কমপক্ষে ৩বার ভালো করে শেষ করুন। কারণ এই টিপকগুলো থেকে পরীক্ষায় অধিকাংশ প্রশ্ন কমন আসবে। বাংলাদেশের প্রথম সাজেশনভিত্তিক প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ গাইড “প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ Analysis” বইয়ে প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন Analysis করে দেয়া হয়েছে কোন টপিক বেশি Important আর কোন টপিক কম Important ; কোন টপিক থেকে প্রশ্ন বেশি আসে আর কোন টপিক থেকে প্রশ্ন কম আসে।
.

মনে রাখবেন, এইবার প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সময় একেবারেই কম। এতো বেশি পড়ার সময় নেই। এখন শুধু Important বিষয়গুলো বারবার পড়ে পরীক্ষায় বেশি নাম্বার পেতে হবে। Important বিষয়গুলো বারবার এইজন্য পড়তে হবে যে, যেন পরীক্ষায় কমন পড়লে সঠিক উত্তর মিস না হয়। বিগত সালের প্রশ্ন Analysis করে দেখা গেছে ম্যাক্সিমাম প্রশ্নই কমন টপিক থেকে আসে। কিন্তু পরীক্ষার হলে কনফিউজড হওয়ার কারণে ভুল উত্তর দিয়ে আসে; আর পরীক্ষায় পাশ না করতে পারার আফসোস থেকে যায়! আফসোস করে আর বলে, “ইশ! এতো সহজ প্রশ্ন আসলো তারপরও ভালোভাবে উত্তর করতে পারলাম না!
প্রশ্ন কিন্তু সবসময় সহজই হয় দুই-একটা ব্যতিক্রম ছাড়া, কিন্তু পরীক্ষার আগে উলটো-পালটা সব পড়ে পরীক্ষার হলে যাওয়ার পর মাথা ঘুলিয়ে যায় তখন প্রশ্ন কঠিন মনে হয়, পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার পর আবার সেই প্রশ্নই অনেক সহজ মনে হয়!

এরপর পর্যায়ক্রমে ৩*** (3 Star), ২** (2 Start) টপিকগুলোভাবে শেষ করুন কমপক্ষে ২ বার।

*এরপর বিসিএস প্রিলির ৩৯তম-৩৫তম পর্যন্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো ব্যাখ্যাসহ ভালো করে পড়বেন (তবে ৩৯তম -১০তম পর্যন্ত পড়তে পারলে আরো ভালো হয়)। কারণ বিসিএস প্রিলির বিগত সালের প্রশ্ন থেকে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।

*প্রতিমাসে আপডেট থাকার জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়বেন। বিশেষ করে জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর লাস্ট এই ৩ মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়বেন।
*এরপর আপনি বইয়ের শেষে অংশে থাকা মডেল টেস্টগুলো ১ ঘণ্টা সময় ধরে দিন। পরীক্ষার হলে যদিও সময় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট, সেখানে কিছু সময় নষ্ট হয়। তাই বাসায় আরেকটু কম সময় ধরে পরীক্ষা দিতে হবে।

পরীক্ষা দেয়ার পর উত্তরপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখুন আপনি মোট কত নাম্বার পান নেগেটিভ নাম্বার মাইনাস করার পর। যদি আপনি দেখেন যে মডেল টেস্টে ৭০ বা তারও বেশি নাম্বার পান তাহলে আপনার প্রস্তুতি ভালো হয়েছে বলে ধরে নিবেন। এবং পরীক্ষায় ভালো করবেন বলে বিশ্বাস রাখা যায়।
*যদি মডেল টেস্টে ৫০ থেকে ৬৯ নাম্বার পান তাহলে ধরে নিবেন প্রস্তুতি মোটামুটি হয়েছে, চাকরি পেতে হলে আরো ভালো করতে হবে।
*আর যদি মডেল টেস্টে ৫০ নাম্বারের কম পান ধরে নিবেন আপনার প্রস্তুতি অনেক খারাপ, আরো ভালো করে পড়তে হবে।
আর মডেল টেস্টে যে সাবজেক্টে কম নাম্বার পাচ্ছেন সেখানে জোর দিবেন, বেশি বেশি খাতায় লিখে লিখে পড়বেন।
*পড়ার টেবিলে বসে ফেইসবুক, মেসেঞ্জার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। তাহলে পড়ায় মনোযোগ বেশি আসবে এবং পড়া মনে বেশি থাকবে।
এইভাবে প্রস্তুতি নিলে আশা করি ভালো ফল পাবেন।
*মনে রাখবেন, “কম পড়বেন কিন্তু Important বিষয়গুলো গুছিয়ে পড়বেন।”
*আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, “একটি ভালো বই আর আরেকটি ভালো সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে আপনার পুরো জীবন।”
*সকল সৎ পরিশ্রমীর জন্য শুভ কামনা রইল।

You may also like...